সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল সেবার অ্যাক্সেস সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান
দেশে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে টেলিকমের ভূমিকা অপরিসীম। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সামনে এগোতে হচ্ছে। এই অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্মার্ট ডিভাইসের পেনিট্রেশন বাড়াতে হবে। এজন্য নিজেদের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এদিকেও নজর দেয়ার কথা বলেন টেলিকম খাতের বিনিয়োগকারীরা।
শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাপদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ আয়োজনে ‘ডিজিটাল রাষ্ট্রের সহায়ক শক্তি: অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি হিসেবে টেলকো’ শিরোনামে প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তরা।
প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী।
প্যানেলে আলোচক ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার ড. আসিফ নাইমুর রশিদ, রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, বাংলালিংকের সিইও ইউহান বুস, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকিশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রশীদ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
এমদাদ উল বারী বলেন, বাংলাদেশে ফিক্সড টেলিকমের পাশাপাশি মোবাইল সেবা শুরু হয় নব্বই দশকে। যারা এটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা জানেন কি ধরনের কঠিন কাজ ছিল সেটা। যা গত ২০/৩০ বছরে একটা রেভুলোশনের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থায় এসেছে। এর সবকিছুই হয়েছে একটি বিষয়কে সামনে রেখে সেটা ভয়েস কল।
গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার ড. আসিফ নাইমুর রশিদ বলেন, আমাদের দেশে এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। এটা ধীরে ধীরে বদল হচ্ছে। কিন্তু আমাদের জোর দিতে হবে স্মার্টফোন পেনিট্রেশনে। ডিজিটাল অ্যাক্সেস এবং জীবনকে সহজ করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের সব শ্রেণির ব্যবহারকারীর জন্য একটা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। যেখানে কৃষক তার মতো কনটেন্ট দেখতে পারবেন যা তার দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজন। একইভাবে অন্য যেকোনো পেশার মানুষের জন্য এটা তার মতো করে ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। তবেই এটা থেকে প্রকৃত ভ্যালু ক্রিয়েশন করা সম্ভব।
বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে বলেন, ফোরজি নেটওয়ার্কের পেছনেই বাংলালিংক গত কয়েক বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে শুধু ফোরজি সেবা দিতে। বাংলাদেশের পটেনশিয়ালিটি রয়েছে। সে কারণেই বিজনেস এবং সাধারণের মধ্যে ডিজিটালি যুক্ত হওয়ার প্রবণা বেড়েছে। সেখানে বাধাহীন কানেক্টিভিটি পৌঁছে দিচ্ছে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো। এটা কিন্তু খুব কঠিন কাজ এবং বড় বিনিয়োগের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বাজারগুলোতে কৃষি, শিক্ষা, শিল্প সবখাতের জন্যই আলাদা ইকোসিস্টেম রয়েছে। আমরা বাংলালিংকের মাই বিএল অ্যাপ থেকেও তেমন একটা ইকোসিস্টেম তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেখানে আমরা সাইবার সিকিউরিটি এনশিওর করে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
রবির সিইও জিহাদ সাতারা বাংলাদেশের ডিজিটাল জার্নিতে টেলিকমের অবদান নিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে সফটওয়্যার তৈরির বিষয়টি ছিল একেবারেই কঠিন। কিন্তু টেলকো সেগুলোতে বিনিয়োগ করেছে, প্ল্যাটফর্ম করে দিয়েছে। ফলে এখন সে খাতটিতে সক্ষমতা এনেছে টেলকো। অন্য বিষয়টি হলো মোবাইল ফ্যাইনান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস। এখন এটি বাংলাদেশে টেলিকমের কল্যাণে সবার কাছে পৌঁছে গেছে।
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ ডেটা কানেক্টিভিটির মধ্যে এসেছে। কিন্তু ডিজিটাল নেশন ইনক্লুশন হলো তারা সেই ডিজিটাল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে কোন ধরনের সেবা পাচ্ছে। তারা এটা ব্যবহার করে কী ধরনের শিক্ষা নিচ্ছে। এসব বিবেচনায় নিয়েই মূলত মূল অন্তভূক্তি।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকিশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রশীদ বলেন, বিটিসিএল দেশে টেলিকমের অবকাঠামো তৈরির মূল কারিগর। ডিজিটাল নেশন হলো আমার কাজকর্ম, আমার প্রয়োজনীয়তা যা প্রতিদিন করছি সেগুলোই। কিন্তু সেটার বেশিরভাগই এখন প্রযুক্তি নির্ভর। এই সেবাগুলো দিতেই দেশে বিটিসিএল কাজ করে যাচ্ছে দেশব্যাপী শক্তিশালী টেলিকম অবকাঠামো নির্মাণ করে।
বিসিএস সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা মোবাইল কানেক্টিভিটির কথা বলতে গেলে একেবারে কয়েকটি এলাকা পাহাড় ও চর ছাড়া সব জায়গায় রয়েছে। স্মার্টফোন পেনিট্রেশন রেট এখনো ৫০ শতাংশের নীচে। যদি আমরা সত্যিই ডিজিটাল বলতে যাই তবে এই রেট ৮০ শতাংশের উপরে নিতে হবে। টেলকো কোম্পানিগুলোর এখন উচিত হবে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় স্মার্ট ডিভাইস দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে এই পেনিট্রেশন বাড়ানো যেতে পারে।
প্যানেল আলোচনয় অংশগ্রহণকারীরা এ সময় বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এজন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসিকে আরও দায়িত্ববান ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান।
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েেছে, যা দর্শনার্থীদের এই অত্যাধুনিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।
আয়োজকরা জানান, দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন প্রদর্শনী সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রদর্শনীতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও অনলাইনে (www.ddiexpo.com.bd) অথবা স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে।
চার দিনের প্রদর্শনীতে গোল্ড স্পন্সর ইপসন, অনর, এইচপি, লেনোভো, অপো, স্যামসাং, টেকনো ও শাওমি। সিলভার স্পন্সর এসার, গিগাবাইট, নেটিস, টিপি-লিংক ও ইউসিসি। এছাড়া স্টারলিংক পার্টনার স্টারলিংক ফিলিসিটি আইডিসি।
সহযোগিতায় বাংলাদেশ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) এবং টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)।