বিশ্ব আইটি সম্মেলনে বিসিএস-এর উদ্যোগে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করছে


 

ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭: আগামী ১০-১৩ সেপ্টেম্বর চার দিনব্যাপী তাইওয়ানের তাইপে নগরীতে বসছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’র বিশ্ব অলিম্পিক আসর হিসেবে খ্যাত ‘ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন ইনফরমেশন টেননোলজি (ডব্লিউসিআইটি) ২০১৭’। এবারের এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘ডিজিটাল যুগের প্রতিজ্ঞা পূরণ: ডিজিটাল স্বপ্নে বসবাস’। এরই সমান্তরাল একই স্থানে অনুষ্ঠিত হতে চলছে আরও দু’টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৭’ এবং ‘৩৫তম অ্যাফ্যাক্ট প্লেনারি মিটিং’। 

বিশ্ব এবং ভূ-আঞ্চলিক এসব সম্মেলনে যোগদানের লক্ষে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’র (বিসিএস) উদ্যোগে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের অর্ধশতাধিক সদস্য’র সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল তাইওয়ানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছে। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী বেগম তারানা হালিম, এমপি এবং বিসিএস-এর সভাপতি আলী আশফাকসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিসিএস-এর কার্যনির্বাহী কমিটি’র সদস্যবৃন্দ, দেশের আইসিটি ব্যবসায়ের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, আইসিটি সাংবাদিক, স্কলার, গবেষক প্রমুখ। 

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স (উইটসা)-এর উদ্যোগে ‘ডব্লিউসিআইটি ২০১৭’ এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি’র শীর্ষ সংগঠন এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন (অ্যাসোসিও)-এর উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে ‘অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৭’। এই উভয় সংগঠনেরই সদস্য বিধায় ইনফরমেশন সার্ভিসেস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব তাইওয়ান (সিসা) সরেজমিনে সম্মেলন দু’টি আয়োজনে মুখ্য দায়িত্ব পালন করছে। তাছাড়া, এশিয়া-প্যাসিফিক কাউন্সিল ফর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক বিজনেস (অ্যাফ্যাক্ট) কর্তৃক ‘৩৫তম অ্যাফ্যাক্ট প্লেনারি মিটিং’ আয়োজনেও সিসা সহায়তা প্রদান করছে। 

বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের প্রায় তিন সহস্রাধিক নীতিনির্ধারক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিদ, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিবৃন্দ বিশ্বসেরা এসব সম্মেলনে যোগদান করবেন। তারা সর্বশেষ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ের নতুন-নতুন উদ্ভাবনী পণ্য ও ক্ষেত্র, চিন্তা, মতামত, নতুন পরিষেবা সৃষ্টি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিমালা প্রণয়ের লক্ষে বহুমাত্রিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবেন। 

বাংলাদেশের প্রতিনিধিবৃন্দের মধ্যে প্রতিমন্ত্র্রী বেগম তারানা হালিম, এমপি’র আন্তঃদেশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় (মিনিস্টেরিয়্যাল ডায়লগ) অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিসিএস-এর সভাপতি আলী আশফাকসহ অন্যান্যরা উইটসা’র বোর্ড মিটিং, অ্যাসোসিও’র জেনারেল অ্যাসেম্বলি, স্মার্ট সিটি সেমিনার ও এ সম্পর্কে সম্যক ধারণালাভ, ই-ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বিশ্ব পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের ডিজিটাল রূপান্তরের ফলাফল বিষয়ক আলোচনা, বিটুবি আলোচনা, বহুদেশীয় আলোচনা ও  নেটওয়ার্কিং-এ প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও এসব আয়োজন করবেন। সম্মেলনের পাশাপাশি অনুষ্ঠেয় প্রদর্শনীতে বৃহদাকার ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’-এ বিশ্ব দর্শকমণ্ডলির সামনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দুনিয়া চমকানো ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র অনন্যসাধারণ অগ্রগতি ও সফলতা’র হালনাগাদ চালচিত্র তুলে ধরা হবে। 

অন্যদিকে, আয়োজক সংগঠন তিনটির শীর্ষ সম্মেলনে বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে প্রযুক্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সফলতা ও অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সর্বোত্তম প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদেরকে পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের জন্য সুখবর এই যে, ইতোমধ্যে অ্যাসোসিও কর্তৃক ঘোষিত ফলাফলে এ দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চারটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে মর্যাদাপূর্ণ ‘অ্যাসোসিও অ্যাওয়ার্ডস’ বিজয়ী হয়েছে। তাছাড়া, ‘উইটসা অ্যাক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’ এবং অ্যাফ্যাক্ট কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ই-এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস’-এর বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে প্রতিযোগিতার দে্ৗড়ে এগিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বাংলাদেশের আরও অর্ধডজন প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে নির্দ্বিধায় এ কথা বলা যায় যে, তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্ব পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এবছরই এযাবতকালের সেরা অর্জন সাধিত হবে দ্বীপভূমি তাইওয়ানের তাইপে নগরীতে।

 

১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানিয়ে শুরু হওয়া উল্লেখিত সম্মেলনসমূহের পরিসমাপ্তি ঘটবে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে জমকালো পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য আয়োজন ও নৈশভোজের মাধ্যমে। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) দেশের একমাত্র সংগঠন, যেটি ১৯৯৬ সাল থেকে অ্যাসোসিও এবং ১৯৯৮ সাল থেকে ইউটসা’র প্রভাবশালী সক্রিয় সদস্য হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও আয়োজন করে আসছে। তাছাড়া, বিসিএস-এর বর্তমান সভাপতি আলী আশফাক বাংলাদেশে অ্যাফ্যাক্ট-এর হেড অব ডেলিগেশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকাণ্ডে বিসিএস-এর এই দৃপ্ত পদচারণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে বাংলাদেশ হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে বিশ্ব আইটি সম্মেলন (ডব্লিউসিআইটি ২০২১) আয়োজন করবে। 

বিসিএস জনসংযোগ শাখা কর্তৃক প্রকাশিত প্রচারিত